আপনার কম্পিউটার/ল্যাপটপ ভাইরাস আক্রান্ত? ভেবে পাচ্ছেন না কি করবেন? আসুন, আমি বলে দিচ্ছি সমাধান কি।

আপনার এ্যান্টিভাইরাস কি “ভাইরাস পাওয়া গেছে” এমন কোন ম্যাসেজ দিচ্ছে বা আপনার কম্পিউটার স্লো হয়ে গেছে অথবা উল্টা-পাল্টা আচড়ন করছে, তাহলে এই গাইড আপনাকে সাহায্য করবে আপনার সমস্যা সমাধান করার জন্য।

যদিও ভাইরাস এবং অন্যান্য ম্যালওয়্যার কম্পউটারের ক্ষতিসাধনের জন্য তৈরী করা হয়, কিন্তু বর্তমানে অনেক ম্যালওয়্যার সংগঠিত অপরাধীদের দ্বারা ক্রেডিট কার্ড নম্বর এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

আপনার এ্যান্টিভাইরাস কি “ভাইরাস পাওয়া গেছে” এমন কোন সতর্কবার্তা দিচ্ছে?

যদি আপনি দেখতে পান যে আপনার এ্যান্টিভাইরাস “ভাইরাস পাওয়া গেছে” এমন পপ-আপ বার্তা দিচ্ছে, তাহলে তা খুবই ভাল কথা। আপনার এ্যান্টিভাইরাসটিকে আপনি এত্তো টাকা খরচ করে যে কাজে লাগিয়েছেন, তা সে ঠিকভাবে পালন করছে। সে ভাইরাস ধরতে পেরেছে এবং সম্ভবত সে নিজেই তা অপসারণ করেছে।

“ভাইরাস পাওয়া গেছে” বার্তার অর্থ এই নয় যে ভাইরাসটি আপনার কম্পিউটারে আগে থেকেই ছিলো। হয়তো আপনি কোন ফাইল ডাউনলোড করেছেন আর সেই ফাইলটিতে ভাইরাস সংক্রমন থাকাতে আপনার এ্যান্টিভাইরাস সেই ফাইলটি মুছে দিয়েছে যাতে সে আপনার কম্পিউটারের কোন ক্ষতিসাধন করতে না পারে। অথবা আপনি এমন কোন ওয়েবপেজ ভিজিট করেছেন যাতে ভাইরাস সংক্রমন ছিল আর আপনার এ্যান্টিভাইরাস কোন ক্ষতি হবার আগেই নিজে থেকে ব্যবস্থা নিয়েছে।

“ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে” এমন বার্তা পাবার অর্থ এই যে আপনি এমন কোন ফাইল ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন বা এমন কোন ওয়েবপেজ ভিজিট করতে চাচ্ছেন যা ভাইরাস আক্রান্ত। সুতরাং, সময় এসেছে নিজেকে সুধরে নেবার। ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন যদি আপনার কম্পিউটারের ভালো চান।

যে ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়েছে, তা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আপনি এ্যান্টিভাস প্রোগ্রামের “কোয়ারেনটাইন” অপশনের লগ দেখুন। সেখানে আপনি ভাইরাসের নাম, দূষিত ফাইলের নাম এবং এ্যান্টিভাইরাস সে দূষনকে রোধ করতে কি পদক্ষেপ নিলো তা দেখতে পারবেন।

 

আপনার এ্যান্টিভাইরাস কেনার টাকা নেই, আবার প্রতিজ্ঞা করেছেন অবৈধ উপায়ে কোন এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন না, এমতাবস্থায় কি করবেন?

যদি আপনি কোন এ্যান্টিভাইরাস না ব্যবহার করেন আর লক্ষ্য করেন যে আপনার কম্পিউটার কেমন যেন স্লো হয়ে গেছে বা উল্টা পাল্টা আচড়ন করছে তাহলে খুব সম্ভবত আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় এ্যান্টিভাইরাস কেনার কৃপণতা আপনার সিস্টেমের সর্বনাশ ডেকে আনলো।

যদি আপনি এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন কিন্তু নিয়মিত আপডেট না করেন, তাহলেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমতাবস্থায়, যদি আপনি এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার না করে থাকেন, তাহলে আমার পরামর্শ হবে কালবিলম্ব না করে ভাল একটা এ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করা। বাজারে এখন অনেক এ্যান্টিভাইরাস আছে যা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে যে কোন একটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ফ্রি হিসেবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এ্যাসেনশিয়াল। ইনস্টল করার পরে এ্যান্টিভাইরাসটি আপনার কম্পিউটার ভাইরাস ফ্রি করার সক্ষম হওয়া উচিত। যদি এ্যান্টিভাইরাস তা করতে পারে তাহলে আপনার চিন্তার খুব একটা কারণ নেই। কিন্তু যদি এ্যান্টিভাইরাস সমস্যার সমাধান না করতে পারে তাহলে আরো মারাত্মক সংক্রমন থেকে বাঁচার জন্য নিচের অধ্যায় পড়ুন।

 

যদি আপনার মনে হয় যে আপনার এ্যান্টিভাইরাস তার কাজ যথাযথ ভাবে করতে পারছে না

আপনার যদি ইতিমধ্যে এ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম থেকে থাকে কিন্তু আপনার মনে হয় যে এটি ভাইরাস সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে না তাহলে আপনি অন্য কোন এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে আপনার সন্দেহ নিশ্চিত করতে পারেন।

অনেক এ্যান্টিভাইরাস কোম্পানি অনলাইন স্ক্যানার তৈরী করে – যেমন ইসেট অনলাইন স্ক্যানার। এ জাতীয় প্রোগ্রামগুলো একটি দীর্ঘ ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া ছাড়াই কিছু কম্পোনেন্ট ডাউনলোড করে দ্রুত স্ক্যান করতে সক্ষম। যেহেতু একসঙ্গে একাধিক এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা যায় না আর অন্য একটা এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে গেলে আনইন্সটলেশনের মতো ঝক্কি-ঝামেলা আছে সেহেতু এসব অনলাইন স্ক্যানারগুলোই ব্যবহার করা উত্তম।

অনলাইন স্ক্যানার যদি আপনাকে “ভাইরাস পাওয়া গেছে” এমন বার্তা প্রদান করে, তাহলে অবিলম্বে স্ক্যানিংটুল ব্যবহার করে ভাইরাসটি দূর করে নিন। যদি অনলাইন স্ক্যানার ব্যবহার করে আপনি আপনার সিস্টেমে ভাইরাস পান তাহলে এর মানে হচ্ছে যে আপনার এ্যান্টিভাইরাস খুব একটা কাজের না। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হবে আপনার বর্তমান এ্যান্টিভাইরাসটি আনইনস্টল করে কোন ভালো একটা এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা।

আরো মারাত্মক কোন সমস্যা মোকাবেলা কিভাবে করবেন?

বেশ কিছু ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার আছে যা আপনার কম্পিউটারে খুব শক্ত আসন গেড়ে বসে এবং এগুলো নির্মূল করা খুব কঠিন বিশেষ করে যদি আপনি আক্রান্ত হবার পরে এ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করেন। এক্ষেত্রে ভাইরাস/ম্যালওয়্যার গুলো অনেক সিস্টেম ফাইলকে আক্রান্ত করে ফেলে এবং হয়তোবা অনেক অতিরিক্ত ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে সেগুলো কার্যকর করে ফেলে নিজে থেকেই। এসব ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া খুব কঠিন।

সেফ মোডে বুট করে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। সেফ মোডে উইন্ডোজ কোন থার্ডপার্টি সফটওয়্যার (ভাইরাস সহ) আপনা আপনি লোড হতে দেবে না। সুতরাং, কোন রকম ভাইরাসের ব্যাকগ্রাউন্ড হস্তক্ষেপ ছাড়া আপনি আপনার এ্যান্টিভাইরাসটি ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। সেফ মোডে বুট করার জন্য আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। বুট হবার সময় F8 কী চাপুন, আপনি বুট অপশন দেখতে পাবেন, সেখান থেকে “Safe Mode” নির্বাচন করুন এবং এন্টার কী চাপুন (যদি বুট অপশন মেনু না দেখতে পান তার মানে হচ্ছে আপনি সঠিক সময়ে F8 বাটনে চাপ দেননি, সেক্ষেত্রে পুনরায় কম্পিউটার রিস্টার্ট করে চেষ্টা করুন। সেফ মোডে প্রবেশ করার পর আপনার এ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম চালান এবং আপনার কাজ শেষ হয়ে গেলে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। সেফ মোডে যদি আপনার ইন্টারনেট সংযোগ দরকার হয় সেক্ষেত্রে বুট মেনু অপশনে সেফ মোডের পরিবর্তে Safe Mode with Networking সিলেক্ট করুন।

যদি সেফ মোডে এ্যান্টিভাইরাস কাজ না করে তাহলে আপনি একটা এ্যান্টিভাইরাস রেসকিউ সিডি/ডিভিডি থেকে বুট করার চেষ্টা করতে পারেন। যখন রেসকিউ সিডি/ডিভিডি থেকে এ্যান্টিভাইরাস চালনা করা হয়, তখন এ্যান্টিভাইরাস তার কাজ করার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ পায় যখন ভাইরাসগুলো সুপ্ত এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে (যেহেতু রেসকিউ সিডি/ডিভিডি গুলো অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্য ছাড়াই চলতে পারে।) এবং খুব সহজেই ভাইরাসগুলো নির্মূল করতে পারে। বিটডিফেন্ডার, এ্যাভিরা এবং ক্যাসপারস্কাই এ ধরনের রেসকিউ ডিস্কের সুবিধা দিয়ে থাকে। নিচে কিভাবে এগুলো ব্যবহার করে রেসকিউ ডিস্ক বানানো যায় এবং ভাইরাস নির্মূল করা যায় তার বর্ণনা দেয়া হলো:

কিভাবে ক্যাসপারস্কাই ব্যবহার করে রেসকিউ ডিস্ক বানিয়ে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত করবেন

যখন আপনার কম্পিউটার সম্পূর্নরুপে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যায়, যখন কোন ভাবেই সে ভাইরাস গুলো নির্মূল করা যায় না তখন রেসরিউ ডিস্ক বানিয়ে, তা দিয়ে কম্পিউটার বুট করে ভাইরাস থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে। এখানে আমি আপনাদের বর্ণনা করবো কিভাবে ক্যাসপারস্কাই দিয়ে রেসকিউ ডিস্ক বানিয়ে তা দিয়ে আপনার ভাইরাস আক্রান্ত পিসি পরিষ্কার করবেন:

রেসকিউ ইমেজ ডাউনলোড এবং বার্ণ করা:

প্রথমেই আমাদের যেটা করতে হবে, সেটা হলো ক্যাসপারস্কাই সাইটে গিয়ে তাদের লেটেষ্ট রেসকিউ ডিস্ক ইমেজ ডাউনলোড করা। তারপর যে কোন ইমেজ বার্ণ এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সেই ISO ফাইলটিকে সিডি/ডিভিডিতে বার্ণ করুন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ImgBurn সফটওয়্যারটি পছন্দ করি কারণ এটি ফ্রি। আপনারা অবশ্য যে কোন বার্ণিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।

ক্যাসপারস্কাই রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আক্রান্ত পিসির ভাইরাস নির্মূল করা:

রেসকিউ ডিস্ক তৈরী করার পর সেটি আপনার পিসির সিডি/ডিভিডি ড্রাইভে ঢুকিয়ে পিসিটি রিস্টার্ট করুন এবং সিডি/ডিভিডি থেকে পিসিটি বুট করুন। পিসি সিডি/ডিভিডি থেকে বুট হবার পর নিচের ছবির মতো “Press any key to enter the menu” স্ক্রিন দেখতে পাবেন। মেনুতে প্রবেশ করার জন্য আপনার কীবোর্ড থেকে যে কোন কী চাপুন। প্রদর্শিত সময়ের মধ্যে যদি আপনি যে কোন কী না চাপেন তাহলে পিসি স্বাভাবিক ভাবে হার্ডডিস্ক থেকে আপনার উইন্ডোজ বুট হবে।

মেনুতে আপনি অপশন পাবেন যেখান থেকে আপনি গ্রাফিক মোড বা টেক্সট মোডে সিডি/ডিভিডি টি চালাতে পারবেন। আমার পরামর্শ হলো গ্রাফিক মোড থেকেই বুট করা যদি আপনার গ্রাফিক কার্ড কোন সমস্যা না করে। আর এমন কোন সমস্যা হবার কথাও না।

এখন আপনাকে বলা হবে লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট এ্যাক্সেপ্ট করার জন্য “a” চাপতে। আমার ক্ষেত্রে ক্যাপিটাল “A” কাজ করেনি যদিও এটা স্ক্রিনশটে দেখাচ্ছে। আজব, তাই না!

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনি ক্যাসপারস্কাই রেসকিউ ডিস্কের উইন্ডো দেখতে পাবেন।

এখন, প্রথমেই আপনাকে যা করতে হবে তা হলো My Update Center ট্যাবটি সিলেক্ট করা এবং সেখান থেকে Start update বাটন সিলেক্ট করা যাতে করে এ্যান্টিভাইরাস তার প্রয়োজনীয় ভাইরাস ডেফিনিশন ক্যাসপারস্কাই সার্ভার থেকে আপডেট করে নিতে পারে। মনে রাখবেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপডেট করা শেষ হয়ে গেলে পুনরায় Objects Scan ট্যাবে ফিরে আসুন। যে ড্রাইভগুলো স্ক্যান করতে চান সেগুলো সিলেক্ট করে Start Objects Scan বাটনে ক্লিক করুন। স্ক্যান শুরু হবে এবং সে নিজে থেকেই ভাইরাস নির্মূল করার চেষ্টা করবে। যদি কোন ভাইরাস পাওয়া যায় তাহলে প্রোগ্রাম আপনাকে জিজ্ঞেস করবে ফাইলগুলো ক্লিন করবে নাকি কোয়ারেনটাইন করবে, টিপিক্যাল এ্যান্টিভাইরাসের স্বভাব।

যদি আপনার অতিরিক্ত কোন কাজ করার দরকার পড়ে বা ভাইরাস(গুলো) সম্পর্কে কোন গবেষনা করার জন্য স্ক্রিনশট নেবার দরকার পড়ে তাহলে উইন্ডোর নিচে থেকে স্টার্ট বাটনে প্রবেশ করতে পারেন। এখানে আপনি পাবেন সর্ম্পূন কর্মক্ষম ওয়েব ব্রাউজার, কমান্ড লাইন, স্ক্রিনশট অপশন এবং একটি ফাইল ম্যানেজার।

ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করে আপনি আপনার হার্ডডিস্ক পার্টিশনে প্রবেশ করতে পারবেন এবং অন্য কোন কাজ থাকলে (যেমন কোন ফাইল এক ড্রাইভ থেকে অন্য ড্রাইভে মুভ করা) তা করতে পারবেন।

এভাবেই আমরা ক্যাসপারস্কাই রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে পিসি থেকে ভাইরাস নির্মূল করতে পারি।

কিভাবে বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আপনার পিসি থেকে ভাইরাস নির্মূল করবেন:

আমরা উপরে দেখেছি কিভাবে ক্যাসপারস্কাই রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে ভাইরাস নির্মূল করতে পারি। এবার আমরা দেখবো কিভাবে বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে এই কাজটি করা যায়। বলে রাখা ভালো যে দুটোর কাজের প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম। কিন্তু বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্কের কিছু সুবিধা আছে। যেমন, স্বয়ংক্রিয় ভাইরাস ডেফিনিশন আপডেট এবং একটি কর্মক্ষম ডাটা রিকভারি টুল। আরো একটা কথা বলে রাখি, ভাইরাসের নির্মূল সম্পুর্ণ নিশ্চিত হবার জন্য আপনি ক্যাসপারস্কাই এবং বিটডিফেন্ডার দুটো ডিস্কই ব্যবহার করতে পারেন।

রেসকিউ ইমেজ ডাউনলোড এবং বার্ণ করা:

প্রথমেই বিটডিফেন্ডার সাইটে গিয়ে তাদের লেটেষ্ট রেসকিউ ডিস্কটি ডাউনলোড করে নিন। ডাউনলোড হয়ে গেলে আপনার পছন্দমতো বার্ণিং সফটওয়্যার দিয়ে ইমেজটি সিডি/ডিভিডিতে রাইট করে নিন।

USB ড্রাইভে রেসকিউ ডিস্কটি কপি করা:

যদি আপনি ডাউনলোডকৃত ইমেজটি সিডি/ডিভিডিতে বার্ণ না করে USB ফ্লাশ ড্রাইভ দিয়ে সেই কাজটি সেরে নিতে চান তাহলে UNetbootin ব্যবহার করে আপনার ফ্লাশড্রাইভকে বুটেবল বানাতে পারেন। এক্ষেত্রে নিচের ছবির মতো Diskimage সিলেক্ট করুন আর আপনার ডাউনলোডকৃত ইমেজটির অবস্থান দেখিয়ে দিয়ে OK ক্লিক করুন। বাকী কাজ সে নিজেই করে নিবে।

বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আক্রান্ত পিসির ভাইরাস নির্মূল করা:

সিডি/ডিভিডি/USB বানানো হয়ে গেলে আপনার পিসি রিবুট করে সিডি/ডিভিডি/USB থেকে বুট করুন। বুট হলে নিচের মেনুর মতো দেখতে পাবেন যেখানে আপনাকে ভাষা সিলেক্ট করতে বলা হবে। সেখান থেকে Start Bitdefender Rescue CD in English সিলেক্ট করুন।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিডি/ডিভিডি/USB টি বুট হবে এবং নিচের মতো দেখাবে। যদি স্ক্রিন রেজ্যুলুশন খুব ছোট হয় তাহলে বামদিকের একদম নিচে থেকে মেনু ওপেন করে সেখান থেকে Settings –> Display সিলেক্ট করে ঠিক করে নিন।

এখান থেকে আপনি রেজ্যুলুশন পরিবর্তন করতে পারবেন। আমার পরামর্শ মতো 1024×768 সিলেক্ট করে নিন যাতে স্ক্রিনে পর্যাপ্ত যায়গা থাকে আর সবকিছু দৃষ্টিগোচড় হয়।

লাইসেন্স এ্যাগ্রিমেন্ট এক্সেপ্ট করার পর সাথে সাথে স্ক্যান শুরু হয়ে যাবে।

স্ক্যান করা ছাড়াও যদি আপনার ফাইল সিস্টেমে কোন কাজ থাকে তাহলে File Manager ব্যবহার করে তা করে নিতে পারেন। এর খুব একটা ভালো আচড়ন যে এটি সরাসরি উইন্ডোজ ড্রাইভেই শুরু হয়।

বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্কে স্বয়ংক্রিয় ভাবে TestDisk ইনস্টল হয়ে যায় যা আপনি ডাটা রিকভার করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয় বলে এ বিষযে এখানে আর বেশি কিছু লিখলাম না। তবে, যদি কারো দরকার পড়ে তাহলে কিভাবে একজন ফরেনসিক এক্সপার্টের মতো ডাটা রিকভার করতে পারেন সে নিয়ে একটা টিউন করতে পারি।

এটাই হচ্ছে বিটডিফেন্ডার রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আপনার পিসি থেকে ভাইরাস নির্মূল করার পদ্ধতি।

এ্যাভিরা রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে ভাইরাস নির্মূল করার পদ্ধতি।

উপরে আমরা দেখেছি কিভাবে বিটডিফেন্ডার এবং ক্যাসপারস্কাই রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আপনার পিসি থেকে ভাইরাস নির্মূল করা যায়। এখন আমরা বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত এমন আরেকটি এ্যান্টিভাইরাস এ্যাভিরা রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে ভাইরাস নির্মূল করা শিখবো।

রেসকিউ ইমেজ ডাউনলোড এবং বার্ণ করা:

বরাবরের মতো প্রথমেই আপনাকে এ্যাভিরা ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের লেটেষ্ট রেসকিউ ডিস্ক ইমেজটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে এ্যাভিরা ওয়েবসাইটে তাদের রেসকিউ ডিস্কের .exe এবং .ISO ভার্শন আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে .exe ফাইলটি ব্যবহার করি কারণ এটি কোন বার্ণিং সফটওয়্যার ছাড়াই সরাসরি রেসকিউ ডিস্ক ইমেজটি ড্রাইভে রাইট করতে পারে।

যদি .exe ফাইলটি ব্যবহার করে আপনার সিডি/ডিভিডি বার্ণ করতে কোন সমস্যা হয় তাহলে আপনি ISO ফাইলটি ডাউনলোড করে সেটি আপনার পছন্দমতো বার্ণিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিডি/ডিভিডিতে রাইট করে নিন।

এ্যাভিরা রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আক্রান্ত পিসির ভাইরাস নির্মূল করা:

সিডি/ডিভিডি বানানো হয়ে গেলে আপনার পিসি রিবুট করে সিডি/ডিভিডি থেকে বুট করুন। বুট হলে নিচের মেনুর মতো দেখতে পাবেন এবং সেখান থেকে 1 চেপে Boot AntiVir Rescue System (Default) সিলেক্ট করুন। যদি কোনকিছুই সিলেক্ট না করেন তাহলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেসকিউ সিডি থেকেই বুট হবে।

সিডি থেকে বুট করার  কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনি গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো Update ট্যাবে গিয়ে ভাইরাস ডেফিনিশন আপডেট করা। Yes সিলেক্ট করুন, আপডেট শুরু হয়ে যাবে।

আপডেট শেষ হবার পরে পুনরায় Virus scanner ট্যাবে ফিরে আসুন। সেখান থেকে Start Scanner বাটনে ক্লিক করুন, স্ক্যান শুরু হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, হয়তো স্ক্যান করতে অনেক সময় নিবে। তাই একটু ধৈর্য্য ধরুন।

ব্যস, এভাবেই এ্যাভিরা রেসকিউ ডিস্ক ব্যবহার করে আপনি আপনার হার্ডডিস্ক থেকে ভাইরাস নির্মূল করতে পারবেন।

এর পরও যদি ভাইরাসের/ম্যালওয়্যারের সমস্যা থেকেই যায়?

এতোকিছু করার পর, এক হেস্ত-নেস্ত হবার পরও যদি আপনার ভাইরাস সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে করনীয় কি? যদি ভাইরাস/ম্যলওয়্যার আপনার সিস্টেমের কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে বাসা বাধে যা এ্যান্টিভাইরাস ডিলিট করে দেয় তাহলে হয়তো আপনার কম্পিউটার ঠিকমতো কাজ করবে না। সেক্ষেত্রে আপনাকে ফ্যাক্টরি রিসেট করতে হবে। বর্তমানে অনেক ব্রান্ডেড পিসি এবং প্রায় সব ল্যাপটপ রিস্টোর পার্টিশন সহ তৈরী করা হয় যেখানে কোন একটি নির্দিষ্ট কী চেপে আপনি রিস্টোর অপশনে বুট করতে পারেন (যেহেতু একেক কোম্পানি একেক ভাবে এই সিস্টেমটি সেট করে, সেহেতু আপনার পিসির/ল্যাপটপের ম্যনুয়াল দেখুন)। অথবা আপনি উইন্ডোজ রি-ইনস্টল করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারের বুট ড্রাইভারের (সাধারণত C ড্রাইভ) সমস্ত ফাইল এবং প্রোগ্রাম মুছে যাবে। সুতরাং, উইন্ডোজ রি-ইনস্টল করার আগে আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ব্যাকআপ নিতে ভুলবেন না।

সব মিলিয়ে ৭ ঘন্টা লেগেছে টিউনটি তৈরী করতে। এই টিউনটি থেকে যদি একজনও উপকৃত হয় তাহলে আমি আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করবো। সবাই চায় নিজের টিউনটি নির্বাচিত পোষ্ট হিসেবে দেখতে। আপনাদের সহযোগিতায় যদি টিউনটি নির্বাচিত পোষ্ট হিসেবে স্বীকৃতি পায় তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।

আরো একটা ব্যাপার, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বানান এবং ব্যকরণ শুদ্ধ রাখতে। এরপরও যদি কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তাহলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। সবাইকে ধন্যবাদ এতক্ষন ধৈর্য ধরে টিউনটি পড়ার জন্য।

Leave a Reply


SEO Powered By SEOPressor