যুগে যুগে ইতিহাস হয়ে থাকবে যে 10টি মারাক্তক ভাইরাস!

বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি আজ পর্যন্ত রিলিজ হওয়া ইন্টারনেট ইতিহাসের সবচেয়ে মারাক্তক 10টি ভাইরাসকে।

  1. Elk Cloner (1982)

    1982 সালে Richard Skrenta এর তৈরি করা এ ভাইরাসটি boot sectors এ আক্রান্ত করতো এবং  “It will get on all your disks. It will infiltrate your chips. Yes it’s Cloner!” এরকম একটি ম্যাসেজ প্রদর্শন করতো।

  2. Brain (1986)

    মানব মষ্কিস্কের অনুকরনে পাকিস্থানের লাহোরে তৈরি করা হয় এই ভাইরাসটিকে। এটি হার্ডডিক্স ও ফ্লপিডিক্সকে আক্রান্ত করার পাশাপাশি তাদেরকে বিকল করে দিত। 1987-1988 পর্যন্ত এই ভাইরাসটি কম্পিউটার ব্যবহারকারিদের জন্য আতংকের কারন ছিল।

  3. Morris Worm (1988)

    Cornell University এর ছাত্র Robert Tappan এই ভাইরাসটি তৈরি করে প্রায় 6,000 UNIX systems কে বিকল করে দিয়েছিলেন। Unix sendmail, finger এবং rhs/rexec এর কার্যক্ষমতাকে সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে নিতে পারতো এই ভাইরাসটি। বিভিন্ন প্রোগ্রামকে ব্যবহার অনুপোযোগী করে ফেলত এটি . Robert Tappan এই ভাইরাসটি তৈরির অপরাধে তাকে $10,000 জরিমানা ও 3 বছরের জেল খাটতে হয়েছিল।

  4. CIH Virus (1998)

    90 শতকের শেষের দিকে যখন ইন্টারনেট দ্রুত বিস্তার লাভ করছিল ঠিক তখনি তাইওয়ানের কম্পিউটার প্রোগ্রামার  Chen Ing-Hau এই মারাক্তক ভাইরাসটি তৈরি করেছিলেন। system BIOS corruption, overwriting critical information in system drives সহ পুরো সিস্টেমটিকে অকার্যকর করতে সক্ষম ছিল ভাইরাসটি।

  5. Melissa (1999)

    David Smith এই ভাইরাসটির নামকরণ করে ছিলেন একজন lap dancer এর নাম অনুসারে যার নাম ছিল Melissa rose. বিভিন্ন mail systems কে নিস্ক্রিয় করা ছিল যার কাজ। যখন এই ভাইরাসটি কোন ইউজারের inbox এ আসত তখন “Important Message নামে শিরোনাম হত, যাতে প্রায় 80টি porn site এর লিস্ট থাকত। এধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বানানোর অপরাধে Smith কে 20 মাস কারাভোগ সহ 5,000 ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল।

  6. ILOVEYOU (2000)

    মানুষ যে ভালোবাসা অনুরাগী তার আরেকটি প্রমাণ হলো এই ভাইরাসটি। ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তার লাভকারী এই ভাইরাসটি I LOVE YOU শিরোনামে ইমেইল পাঠাত মানুষের ইমেইলে এবং এতে LOVE-LETTER-FOR-YOU.TXT.vbs নামে একটি attachment খাকত আর প্রেমানুরাগীরা সেটি খুলতে ক্লিক করলেই ঘটত সেই ভয়ঙ্কর অঘটনটি। ইউজারের address books spamming হতো যার কারনে উক্ত ইমেইলটির সেন্ডার থাকতো ইউজারের ই কোন পরিচিত ব্যাক্তি, তাই বিনা সন্দেহে মানুষ এই ফাঁদে পা বাড়াত। ফলশ্রুতিতে প্রায় 1 কোটি কম্পিউটার উক্ত ভাইরাসটি কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিল। ফিলিপাইনের AMA Computer University-র ছাত্র Onel A. de Guzman এই ভাইরাসটির জনক।

  7. CodeRed (2001)

    ফিলিপাইনে তৈরি হওয়া এই ভাইরাসটি “Hacked by Chinese,” নামে গুজর ছড়াত। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কম্পিউটারের hard drive এ থাকা ডকুমেন্ট সংয়ক্রিয় ভাবে মুছে যেত। এই ভাইরাসটি ইন্টারনেটে এতটাই বিস্তার লাভ করেছিল যে FBI এরও দৃষ্টি পড়েছিল সেদিকে।

  8. Blaster Worm (2003)

    এটি বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইটের সার্ভারে আক্রমন করত। Microsoft এই ভাইরাস স্রস্টাকে ধরিয়ে দিতে বিশাল পুস্কার ঘোষনা করেছিল। এই ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে প্রায় 3 কোটি ডলার ক্ষয়-ক্ষতি করেছিল। এই ভাইরাস নির্মাতাকে আজও খুজে পাওয়া যায়নি।

  9. MyDoom (2004)

    বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী ইন্টারনেট ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়ানক ও বিধ্বংসী ভাইরাস। এই ভাইরাসটি প্রায় 3800 কোটি ডলার ক্ষতি করেছিল বিশ্বজুড়ে। দখল করেছিল 20-30% ইমেইল ট্রাফিক। ইমেইলের ও জনপ্রিয় ফাইল শেয়ারিং মাধ্যম Kazaa এর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় বিশ্বের সকল প্রান্তে।   এই ভাইরাস স্রস্টাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি আজও, কিন্তু ধারনা করা হচ্ছে সে রাশিয়ার অধিবাসী।

  10. Conflicker (2007)

    এই ভাইরাসটি antivirus software হিসেবে মানুষের কাছে তার পরিচয় দিত। আর যখন মানুষ এটি তাদের কম্পিউটারে ইনস্টল দিত তখই তার কম্পিউটারটি আক্রান্ত হত। কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রন চলে যেত ভাইরাসের তত্বাবধানে। এই ভাইরাসের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের গোপন সব তথ্য চুরি করা্ এটি ঐ কম্পিউটারে ইনস্টল থাকা antivirus কেও disable করে দিত। এর এক একটি পয়েন্ট থেকে প্রায় 70 লক্ষ কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারত।

Leave a Reply


SEO Powered By SEOPressor